কলম্বিয়া, আনুষ্ঠানিকভাবে কলম্বিয়া প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র, যা ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এটি দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র দেশ যার তটরেখা ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর—উভয়ের সাথেই বিস্তৃত। দেশটির পূর্বে ভেনেজুয়েলা ও ব্রাজিল, দক্ষিণে ইকুয়েডর ও পেরু এবং উত্তর-পশ্চিমে পানামা অবস্থিত। রাজধানী ও বৃহত্তম শহর বোগোতা। নয়নাভিরাম সমুদ্রসৈকত, আন্দিজ পর্বতমালা ও ঘন অতিবৃষ্টি অরণ্যে সমৃদ্ধ হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, দীর্ঘদিনের গৃহসংঘাত ও মাদক চোরাচালান কলম্বিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত ও বিতর্কিত করে তুলেছে। তা সত্ত্বেও কলম্বিয়ার গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার ইতিহাস দীর্ঘ এবং লাতিন আমেরিকার প্রাচীন রাজনৈতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ।
ইউরোপীয়দের আগমনের আগে কলম্বিয়া অঞ্চলে চিবচা, মুইসকা, তাইরোনা, কুইম্বায়া ও জেনু জাতিসহ বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। ষোড়শ শতক থেকে প্রায় তিনশ বছর কলম্বিয়া স্পেনের উপনিবেশ ছিল এবং এই ঔপনিবেশিক শাসনই দেশটির তীব্র শ্রেণীবৈষম্যের ভিত্তি তৈরি করে। ১৮১৯ সালে সিমন বলিভারের নেতৃত্বে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে এবং একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপ নেয়। স্বাধীনতার পরও সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা দীর্ঘদিন একটি ক্ষুদ্র বিত্তশালী শ্রেণীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। কফিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থান ঘটলেও শ্রেণীবৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি।
২০শ শতকের মধ্যভাগ থেকে কলম্বিয়া দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ, বামপন্থী গেরিলা, আধা-সামরিক বাহিনী ও সরকারি সেনাবাহিনীর সংঘাতে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে কোকেনসহ অবৈধ মাদক উৎপাদন ও পাচার দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করে তোলে। সরকার গেরিলা গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি আলোচনা ও মাদক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বহু সংকট সত্ত্বেও কলম্বিয়া দক্ষিণ আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে তার সাংবিধানিক গণতন্ত্র, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বজায় রেখে চলেছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
উত্তর আমেরিকা
দক্ষিণ আমেরিকা
ইউরোপ
আফ্রিকা
Read more